মানিলন্ডারিং করছে উবার, দারাজ ও ফুডপান্ডা
উবার, দারাজ ও ফুডপান্ডার মতো বিদেশী কোম্পানি মানিলন্ডারিং করছে বলে জানিয়েছেন ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ীরা। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া বায়িং কম্লায়েন্স অ্যালায়েন্স ইনিসিয়েটিভ আয়োজিত ‘বিদেশী অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন: মিডিয়া এবং কনটেন্ট শিল্পের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই অভিযোগ করেন তারা।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় আজকের ডিল ও বিডিজবস সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হয় অনলাইন ফরেন মিডিয়ায়। তিনি বলেন, দারাজ, উবার, ফুডপান্ডার মতো বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে যে অর্থ খরচ করেন সেটি বৈধ উপায়ে নয়। ফেসবুক, গুগল বা ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোতে এই কোম্পানিগুলো যে কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপনবাবদ ব্যয় করে সেটি দেশের বাইরে হতে পরিশোধ হয়। এতে সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স বা পাওনা রাজস্বের কিছুই পায় না। আর দেশের ব্যবসার জন্য দেয়া বিজ্ঞাপনের টাকা সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স না দিয়ে বিদেশের কোনো জায়গা হতে পরিশোধ করা আইনগতভাবে অবৈধ। এটি সরাসরি মানি লন্ডারিং।
একই মত পোষণ করে অনলাইন পোর্টাল প্রিয়ডটকমের সিইও এবং বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান বলেন,বিদেশি অপারেটররা- মানে দারাজ, উবার বা ফুডপান্ডার মতো কোম্পানিগুলোর ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্য ও সেবার বিজ্ঞপনের বিল দেশের বাইরে হতে পরিশোধ করা হচ্ছে। এটা তো উম্মুক্তভাবেই সরাসরি মানি লন্ডারিং।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের বাজার আকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর বেশির ভাগই হিসাবের মধ্যে রাখা যায় না। কারণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা ও পণ্যের বিজ্ঞাপনের বিল অনেক ক্ষেত্রেই দেশের বাইরে থেকে পরিশোধ করা হয়। ফলে সরকার রাজস্ব হারায়। অথচ এখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো ৭০ টাকায় একটি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে আর দেশীয় উদ্যোক্তারা সেটি ১৪০ টাকা, প্রায় ডাবল খরচ করে একই বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এটি অনেক বড় বাধা।
ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্ট এনালাইজেন বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিসালাত সিদ্দিক বলেন, এ দেশ থেকে ফেসবুক, গুগলের মতো অনাবাসী প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চাইলে ভ্যাট-কর দিতে হয়। ১০০ টাকার বিজ্ঞাপনের মূল্যের ওপর ২৫ টাকা কর এবং ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা ভ্যাট দিতে হয়। আবার ভ্যাট-কর ফাঁকি দিতে চাইলে হুন্ডি বা অবৈধ উপায়ে ১০০ টাকা পাঠিয়ে দেয় অনেকে। ফলে যারা নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করতে চান, তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। তবে দেশীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরেকটু কর সুবিধা দিলে বিজ্ঞাপনের নামে টাকা বিদেশে চলে যাবে না।
বক্তব্যে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গিকি সোশ্যালের কো-ফাউন্ডার সাইমুম হোসাইন বলেন, যে ৭০ শতাংশ খরচের হিসাব সরকার পায় না তার অনেকটা আবার নন কমপ্লায়েন্স এজেন্সির মাধ্যমেই যাচ্ছে। শুধু ছোট এজেন্সি নয়, অনেক বড় এজেন্সিও ক্লায়েন্টকে ম্যানেজ করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এর মানে তারা সিঙ্গাপুরে বা ইউএসে একটা অ্যাকাউন্ট থেকে পেইমেন্ট করে দেয়া। এটা তো পিওর মানি লন্ডারিং।
এসএসএল ওয়ারলেসের প্রধান পরিচালক কর্মকর্তা আশিস চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। তারাও পণ্য ও সেবা প্রচার-প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে যেসব বিদেশী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে তারা স্থানীয় কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করলে এই দেশের আইন মেনেই করে। কিন্তু ফেসবুক, গুগল এখানে অফিস স্থাপন করছে না।
তিনি বলেন, ভ্যাট দিলেও ব্যাংক কোনো ডকুমেন্ট দেয় না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া দরকার। মোবাইল অপারেটররা যেভাবে ভ্যাস সেবাদাতাকে সার্টিফিকেট দেয় ই-বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও সেটা করা যেতে পারে।